ভারতে নিষিদ্ধ হল জিনট্যাক, গ্যাস-অম্বলের ওষুধ বয়ে আনছে ক্যান্সার!

স্বাস্থ্য

 

ভারতে নিষিদ্ধ হল জিনট্যাক, গ্যাস-অম্বলের ওষুধ বয়ে আনছে ক্যান্সার! 

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ গ্যাস-অম্বল মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়েছে। এর কারণে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে নানা ভোগান্তির পাল্লায় পড়তে হচ্ছে , আর তার থেকে মুক্তির ওষুধ হল জিনট্যাক। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ‌)‌ সংস্থা জানিয়েছে, গ্যাস, অম্বল, পেটে ব্যথায় আমরা যে ওষুধ খেয়ে থাকি, সেই ওষুধে এমন কিছু উপাদান থাকে যা থেকে ক্যানসার হতে পারে।

 

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টাসিড বিষের থেকেও মারাত্মক। অন্তত ৬০ বছর আগে সতর্ক করেছিলেন এরাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়। ব্যাগ বা পার্স হাতড়ালেই অনেকের কাছেই মিলবে অ্যান্টাসিড। হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা থেকে গলাবুক জ্বালা — যে কোনও ছোটখাটো সমস্যার রেডিমেডি সমাধান। সেই অ্যান্টাসিড থেকে ক্যান্সারের সম্ভাবনা। আমেরিকার পর ভারতেও সতর্কতা জারি হল।

 

নির্দিষ্ট এক ধরণের রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে। আর অ্যান্টাসিডের এই রাসায়নিক থেকেই শরীরে ক্যান্সার ছড়াচ্ছে। গবেষণায় এই তথ্য সামনে আসার পরই র‍্যানিটিডিন জাতীয় ওষুধ নিয়ে সতর্কতা জারি করল ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটি।

 

 

 

মার্কিন সংস্থার বক্তব্য, জিনট্যাক ও অ্যাসিলক জাতীয় ট্যাবলেটে র্যারন্টিডাইন নামক একটি ড্রাগ থাকে। ওই ড্রাগে এমন কিছু উপাদান থাকে যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের তরফে বিবৃতি দিয়ে আপাতত জিনট্যাকের বিক্রি বন্ধের কথা জানানো হয়েছে। গতকালই ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনকে র্যা নিটিডিন জাতীয় ওষুধ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়।

 

মাথার যন্ত্রণা থেকে হার্টের সমস্যা – দেশের বাজারে ছোটবড় ১৫টি অসুখে র‍্যানিটিডিন জাতীয় ওষুধের ব্যবহার হয়। ট্যাবলেট ও ইনজেকশনে এই জাতীয় ওষুধের ব্যবহার ৷ ড্রাগ কন্ট্রোলের শিডিউল এইচ তালিকায় ৷ ২৬টি স্বীকৃত সংস্থা ১৮০টিরও বেশি ওষুধে র‍্যানিটিডিন ব্যবহার করে ৷

 

জিনট্যাক থেকে অ্যাসিলক, র‍্যানটাক ওডি কিংবা আর-ল্যাক — ছোটবড় সমস্যায় চোখ বুঁজে এসব ওষুধ খাওয়া অনেকেরই অভ্যস। অর্থাৎ অ্যান্টাসিডের অভ্যেস ছেড়ে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের স্মরণ নিতেই হচ্ছে।

 

প্রত্যেক রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের রাজ্যে অন্য কোথাও র্যাানিটিডিন জাতীয় ওষুধ তৈরি হলে তা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য। শুধু জিনট্যাক নয়, গোটা বিশ্বে নানা নামে ও নানা ব্র্যান্ডে এই র্যানিটিডিন ওষুধ বিক্রি হয়ে থাকে। জিনট্যাক ছাড়াও র্যা নিটিডিন জাতীয় আরও ব্যবহৃত ওষুধ হল- র্যা নটাক ও র্যাকনটাক-ওডি।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *