নীলাকাশ | ছোট-গল্প | দ্বিতীয় পর্ব | একটু সময় দিয়ে পড়ুন না খারাপ লাগবে না কথা দিচ্ছি | লেখা- পৃথা মাইতি

ছোট-গল্প

দ্বিতীয় পর্ব

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে ক্লিক করুন

দেখতে দেখতে আকাশ আর নীলার সম্পর্ক প্রায় কয়েকমাস হয়ে গেলো। আর এদিকে আকাশ একটা কোম্পানিতে ভালো চাকরি পেয়ে খুব খুশি, এই খুশির খবর টা কিভাবে নীলাকে দেবে সেটাই ভাবছে….

  • আকাশ- নীলা আছো??
  • নীলা- হুম্ বলো
  • আকাশ- জানো একটা বিপদে পড়েছি…
  • নীলা- কি হয়েছে??
  • আকাশ- আর বলো না
  • নীলা– আরে বলবে তো কি হয়েছে
  • আকাশ- আমি না কি করে বলবো বুঝতে পারছি না, মানে আমি একটা চাকরি পেয়েছি
  • নীলা- এতো খুশির একটা খবর তুমি এইভাবে বলছো, জানো কতোটা ভয় পেয়ে গেছি
  • আকাশ- হিহি
  • নীলা- পাগল একটা

[আকাশকে রোজ সকাল হলেই অফিস দৌড়াতে হয়, রোজকার এই রুটিনে একটা জিনিসের খামতি বাড়ছে আর সেটা হলো নীলার প্রতি তার কেয়ার নেওয়া। নীলা রোজ অপেক্ষা করে থাকে কখন আকাশের একটা মেসেজ বা কল আসবে,কিন্তু আসেনা।আকাশ ঠিক বুঝতে পারছে না যে তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সেই দূরত্ব টা সে নিজেই তৈরি করছে। হঠাৎ একদিন নীলা আকাশকে কল দিল, আকাশ তখন অফিসে তাই কলটা কেটে দিল… নীলা ভাবলো আকাশ তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে কেন ?? কি ভুল তার ??বা কি হয়েছে আকাশের? রাত্রি 8 টা নাগাদ আকাশ বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে নীলাকে কল করলো… ]

  • আকাশ- নীলা….
  • নীলা- হুম্ বলো,
  • আকাশ- নীলা, আমি জানি তুমি আমার ওপর রাগ করে আছো, কি করবো বলো অফিসের খুব চাপ তাই তোমাকে সময় দিতে পারছি না,প্লিস বাবু আর রাগ করে থেকো না
  • নীলা- হুম্…
  • আকাশ- কি হুম্…
  • নীলা- কিছু না
  • আকাশ- প্লিস বাবু রাগ করো না, আচ্ছা এর জন্য তুমি আমায় যা শাস্তি দিতে চাও দিতে পারো
  • নীলা- শাস্তি…
  • আকাশ- হুম্
  • নীলা- আচ্ছা বেশ তুমি আমাদের এখানে এসো, শাস্তি ও দেবো আর আমাদের দেখাটাও হবে।
  • আকাশ- আচ্ছা…যা হুকুম মহারানী নীলা আর আকাশের এটা প্রথম দেখা হবে।

[হুম্ অবশ্যই দুজনেই বেশ খুশি। আকাশ অফিস থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে মেদিনীপুর গেলো নীলার সাথে দেখা করার জন্য। নীলা অপেক্ষা করছে আকাশ কখন আসবে,দেখতে দেখতে আকাশ একটা বাস থেকে নেমে নীলার দিকেই এগোচ্ছে।নীলার হৃদস্পন্দন যেন বেড়েই চলেছে আর আকাশের হৃদয় ধুকপুক ধুকপুক করতে করতে যেন বুক থেকে বেরিয়ে আসবে। চোখে চোখ রাখতে পারছেনা দুজনেই..]

  • আকাশ- তা কি শাস্তি দেবে…
  • নীলা- কোনো শাস্তি না
  • আকাশ- তবে…
  • নীলা- কিছু না
  • আকাশ- আচ্ছা বেশ আইসক্রিম খাবে??
  • নীলা- হুম্ আকাশ- আচ্ছা দাড়াও আনছি… (কিছুক্ষণ পর)
  • আকাশ- নাও…সন্ধ্যা তো হয়ে এলো আমাকে তো একটা রুম বুক করতে হবে….
  • নীলা- রুমের কি দরকার??
  • আকাশ- তাহলে থাকবো কোথায়?? এতো রাতে আমি কি রাস্তায় ঘুরবো
  • নীলা- না আমি তা বলিনি, তুমি আমাদের বাড়িতেও তো থাকতে পারো…
  • আকাশ- কি বলো তুমি?? তোমার বাবা কি বলবেন??
  • নীলা- দেখো তুমি বলবে তুমি অফিসের কাজের জন্য কয়েকদিন এখানে এসেছো কোথাও বাড়ি পাচ্ছো না তাই আমাদের বাড়িতে শেষে এসেছো
  • আকাশ- কিন্তু আমরা দুজন একসঙ্গে গেলে তো তোমার বাবা সন্দেহ করবেন??
  • নীলা- উফ্ বুদ্ধুরাম আমরা দুজনে একসঙ্গে যাবো ঠিকই কিন্তু তুমি কিছুক্ষণ পরে আসবে বুঝলে
  • আকাশ- আচ্ছা বুঝলাম
  • নীলা- হুম্ চলো তো নীলার আইডিয়া টা দারুন ভাবে কাজ করে গেলো।

নীলার বাবা-মায়ের আকাশকে খুব ভালো লাগলো।

[কিছুদিন কেটে গেলো এবার আকাশ ফিরবে, নীলার মন খারাপ করে বসে আছে….]

  • আকাশ– নীলা…আজ তো আমি চলে যাবো, আমার সঙ্গে এখন একটু বেরোব
  • নীলা- আচ্ছা(কাঁদো কাঁদো গলায় বললো)
  • আকাশ- মন খারাপ করো না নীলা আমি আবার আসবো আর এবার এলে তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলে নেবো, এখন একটু হাসো
  • নীলা- অনেক ভালোবাসি(আকাশকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো)
  • আকাশ- জানি তো পাগলী, আর কেঁদো না… হুম্

তারপর আকাশ ফিরে এলো প্রায় কয়েকমাস হয়ে গেলো, নীলা বাড়িতে আকাশের কথা বলেছে, নীলার বাবা-মা তাই আকাশের সঙ্গে কথা বলতে চায় তাই আবার যেতে হবে নীলার বাড়ি। নীলার বাবার থেকে সম্মতি পেয়ে আকাশ খুব খুশি,আকাশের বাড়ি থেকেও সম্মতি পেয়েছিল। তাই নীলার পড়াশুনা শেষ হতেই ওদের চারহাত এক করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় দুজনের বাড়ি থেকে।যতোই দূরত্ব হোক না কেন, সম্পর্কের মধ্যে যতোই টানাপোড়েন আসুক না কেন দুজন দুজনের প্রতি আস্থা,বিশ্বাস থাকলে সম্পর্ক এমনিতেই টিকে থাকে।

সুখে থাকুক ওরা,বেঁচে থাকুক ভালোবাসা।।

লেখা- পৃথা মাইতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *