বাঙালিদের জন্য সুখবর, পুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে আসছে ৫০০ টন ইলিশ, কমবে দাম

0
5000

 

 

 

বাজারে যাচ্ছেন। মনে সাধ হচ্ছে ইলিশ কেনার। কিন্তু দাম দেখে ফির আসছেন বাড়িতে। মনের সাধ মনেই থেকে যাচ্ছে। ইলিশের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। ইলিশ মাছের দাম দেখে চোখ ছানাবড়া হচ্ছে মধ্যবিত্তের। কিন্তু পুজোর আগে সুখবর। দুর্গাপুজোয় মধ্যবিত্তের পাতে উঠতে পারে ইলিশ। বাংলাদেশ থেকে আসছে ৫০০ টন ইলিশ। পুজোর আগেই এপারে এসে পৌঁছবে এই ৫০০ টন ইলিশ। স্বাভাবিকভাবেই পুজো জমে যেতে পারে ইলিশের পাতুরি বা সরষে ইলিশে।

 

বাঙালি একেই খাদ্যরসিক। তার উপর আবার উৎসব হলে তো কথাই নেই। এই কটাদিন আর কোনও ডায়েট নয়। পরিবর্তে পেটপুরে খাওয়াদাওয়াকেই মূলমন্ত্র করে ফেলেন বাঙালিরা।

 

 

এই উৎসবের মরসুমে ভারতের খাদ্যরসিকদের জন্য প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র দিল বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুর্গাপুজোয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।

 

 

 

 

উৎসবের মরসুম মানেই বাঙালি পেটপুরে খাওয়াদাওয়া ছাড়া কিছুই বোঝে না। আর এই সময় পাতে রূপোলি শস্য থাকবে না তা কি হতে পারে? সেই সুযোগই করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ, এবার প্রথম পুজোর সময় কলকাতায় ৫০০টন ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার শহরে আসে বিপুল পরিমাণ মাছ।

 

 

 

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কলকাতায় ৫০০টন ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র দেয়। এই ইলিশের প্রথম চালান আসে শনিবার অর্থাৎ মহালয়ায়। কয়েক ধাপে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে শহরে পৌঁছাবে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পথে ইলিশ আসবে কলকাতায়। এরপর এই ইলিশ চলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে। এ বছর বাংলায় বর্ষার শুরু থেকে ইলিশের আমদানি নেই বললেই চলে। তার ফলে আকাশছোঁয়া দাম রূপোলি শস্যের। যে মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা। তারই দাম নিচ্ছে কমপক্ষে ৫০০টাকা। যার ফলে ইলিশ কিনতে গেলেই হাতে ছ্যাঁকা মধ্যবিত্তের।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব ডঃ মহম্মদ জাফরউদ্দিন বলেন, “দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে এটি রপ্তানির কোনও বিষয় নয়। দুর্গাপুজো উপলক্ষে শুধু একবারই পাঠানো হবে। পশ্চিমবঙ্গে ৫০০টন ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতায় ইলিশ নিয়ে যাবেন। পরে সেখানকার বাজারে তা বিক্রি করবেন। মূলত কলকাতার বাজারেই এই ইলিশ বিক্রি হবে। ২০১২ সালের পর থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর থেকে বৈধভাবে বাংলাদেশের ইলিশ আর কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে যায় না।” কলকাতায় ইলিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, “২০১২ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এবার দুর্গাপুজোয় বাংলাদেশ সরকার পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আমরা খুব খুশি। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”