জেনে নিন লক্ষ্মী বারে কিভাবে লক্ষ্মী পুজো করলে মা লক্ষ্মীর কৃপায় অভাব অনটন দূর হয়, আর আসবে দুহাত ভরে টাকা

0
4363

 

জেনে নিন লক্ষ্মী বারে কিভাবে লক্ষ্মী পুজো করলে মা লক্ষ্মীর কৃপায় অভাব অনটন দূর হয়, আর আসবে দুহাত ভরে টাকা

 

 

প্রতিটি গৃহস্থেই মা লক্ষ্মীর কৃপার প্রয়োজন হয়ে থাকে অত্যন্ত ভাবেই ৷ মা লক্ষ্মীর কৃপায় সংসারের শ্রীবৃদ্ধিতে মঙ্গলময় হয়ে ওঠে সংসার ৷

 

প্রচলিত একটি কথা আছে সংসার সুখের হয় রমনির গুণে ৷ অর্থাৎ একটি লক্ষ্মীমন্ত বউই সংসারের প্রকৃত উন্নতি সাধন করতে পারে ৷ সংসারে নিয়ে আসে স্থিতিশীলতা ৷

মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রতিদিনই গ্রাহ্যস্থ অসান্তির মূল কারণ অর্থনৈতিক দৈন্যতা ৷ টাকা পয়সার অভাবেই সংসার যেন কেমন একটা তেতো স্বাদের বড়ির মত হয়ে ওঠে ৷ পুরাণ বলছে লক্ষ্মীপুজো শুধুই ভাল করে করলে হবেনা ৷ পড়তে হবে মা লক্ষ্মীর পাঁচালিও ৷

 

 

দোল পূর্ণিমা নিশি নির্মল আকাশ, মৃদুমন্দ বইতেছে মলয় বাতাস ৷ সন্ধ্যাপ্রদীপ জেলে প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়লে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় ৷

পূজার মন্ত্র

“নমামি সর্বভূতানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে যা গতিস্ত্বৎপ্রপন্নানাং সা মে ভূয়াৎ ত্বদর্চনাৎ।”

অর্থাৎ ‘হে হরিপ্রিয়ে,তুমি সকল প্রাণীকে বরদান করিয়া থাক, তোমাকে প্রণাম করি। যাহারা তোমার শরণাগত হয়, তাহাদের যে গতি, তোমার পূজার ফলে আমারও যেন সেই গতি হয়।’

 

পূজার সময়

বর্তমানে গৃহস্থের সুবিধের জন্যই হোক বা পুরোহিতের স্বল্পতার জন্য, লক্ষ্মী পুজো (বারোমেসে পুজো বাদে) হয় সকাল থেকেই। কিন্তু কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর প্রকৃষ্ট সময় প্রদোষকাল। অর্থাৎ সূর্যাস্ত থেকে দু ঘণ্টা পর্যন্ত যে সময়। যদিও প্রদোষ থেকে নিশীথ অবধি তিথি থাকলেও সেই প্রদোষেই পুজো বিহিত। কিন্তু আগেরদিন রাত্রি থেকে পরদিন প্রদোষ পর্যন্ত তিথি থাকলে পরদিন প্রদোষেই পুজো করা বিধেয়। আবার আগেরদিন রাতে তিথি থাকলেও যদি পরদিন প্রদোষে তিথি না থাকে তাহলে আগেরদিন প্রদোষেই পুজো করা কর্তব্য।

 

পূজার আচার

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোতে দেখা যায় জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক আচার অনুষ্ঠান। এখনও ঘরে ঘরে প্রতি বৃহস্পতিবারে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করে তাঁর আরাধনা করা হয়। উপচারে ফল মিষ্টি ছাড়াও থাকে মোয়া, নাড়ু ইত্যাদি। লক্ষ্মীর আচার অনুষ্ঠানেও দেখা যায় নানা ধরনের তাৎপর্য। কোনও কোনও পরিবারে পুজোয় মোট ১৪টি পাত্রে উপচার রাখা হয়। কলাপাতায় টাকা, স্বর্ণ মুদ্রা, ধান, পান, কড়ি, হলুদ ও হরিতকী দিয়ে সাজানো হয় পুজো স্থানটিকে। পুজোর উপকরণ এবং আচার অনুষ্ঠান দেখে অনুমান করা যায় এর নেপথ্যে থাকা কৃষি সমাজের প্রভাব। কিছু কিছু জায়গায় লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে মেলা বসে। কোথাও বা নৌকাবাইচও অনুষ্ঠিত হয়।

অনেকেরই হাতে টাকা প্রচুর থাকেনা ৷ এটি এক চঞ্চলতার চিত্ত থেকেই সৃষ্ট ৷ সেই কারণেই মা লক্ষ্মী বেশিক্ষণ সেই বাড়িতে থাকতে চাননা ৷ মা লক্ষ্মীকে সন্তুষ্ট করলেই বাড়বে সংসারের সুখ ও শান্তি ৷

 

পদ্মালয়া মা লক্ষ্মীর বাস পদ্মফুলে ৷ তিনি অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়, শান্ত ও স্নিগ্ধ ৷ যাঁর বাস ফুলের উপরে তিনি কোনও রকমের মনমালিন্য বা অশান্তিতে থাকতেই পারেননা ৷ সংসারের অরাজকতা দূর না করলে মা লক্ষ্মীর কৃপা থেকে বঞ্চিত হতে হবে বারেবারে ৷

 

চাল বা ধানকে মা লক্ষ্মীর প্রতীক হিসাবে মনে করা হয় ৷ ব্রহ্মদানা বা অন্নকে মা লক্ষ্মীর সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে ৷ মায়ের এই প্রতীক সরূপই লক্ষ্মীপুজোয় ধানের শিস প্রয়োজন হয় ৷ লক্ষ্মীর ঝাঁপিও ধান ভর্তি থাকে ৷

 

প্রতিটি গৃহস্থে বৃহস্পতিবার যদি নাও হয়ে ওঠে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় অবশ্যই আলপনা দেওয়া হয়ে থাকে আরাধনা করা হয় মা লক্ষ্মীর ৷ তিনি আলপনা ভীষণ পছন্দ করেন ৷

 

প্রতিটি গৃহস্থে বৃহস্পতিবার যদি নাও হয়ে ওঠে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় অবশ্যই আলপনা দেওয়া হয়ে থাকে আরাধনা করা হয় মা লক্ষ্মীর ৷ তিনি আলপনা ভীষণ পছন্দ করেন ৷

 

মা লক্ষ্মীর পুজোর সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়লেও জীবনে অর্থাভাব মেটে আসে সুস্থিরতা ৷