ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে কলকাতা, রিখটার স্কেলে তার মাত্রা থাকবে ৯… জানাল খড়্গপুর IIT

দেশ দেশ-বিদেশ
প্রতীকী
সুত্রঃ- BBC

যখন তখন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে পারে আমাদের রাজ্য। কলকাতার দমদম,সল্টলেক, পার্কস্ট্রিট এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে ঘটতে পারে এই ঘটনা। শুধুমাত্র পশ্চিমবাংলা নয় পড়শী রাজ্য যথা বিহার,নেপাল এবং বিভিন্ন রাজ্যগুলির প্রায় কয়েক কোটি মানুষের জীবন ভূমিকম্পের কবলে। যদি ভূমিকম্পের কবলে এই রাজ্যগুলি পড়ে তাহলে আর রক্ষা নেই। সম্প্রতি এক গবেষণা অন্তত এমনটাই বলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের তিনটি উৎসস্থল-এর ঘেরাটোপে রয়েছে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলগুলি। এই এলাকার মাটি যে কোন সময়ই কেঁপে উঠতে পারে। ভূমিকম্পের মাত্রা হতে পারে 9। এরকম ভূমিকম্প একবার হলে কলকাতার ঐতিহ্য অর্থাৎ জাদুঘর,বিড়লা তারামণ্ডল,ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং বহু আকাশচুম্বী আবাসন এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ধ্বংস হতে পারে আসানসোল শিলিগুড়ি ধানবাদ এইসব এলাকাগুলি।

এই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন খড়্গপুর আইআইটির জিওলোজি ও জিওফিজিক্সের প্রধান তথা বিশিষ্ট ভূপদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক শংকর কুমার নাথ। তার মতে ভূমিকম্পের অন্যতম উৎসস্থল বঙ্গোপসাগরের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের একদম কাছে, দূরত্ব মোটামুটি সাড়েতিনশো কিলোমিটার। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূমিকম্পের উৎস থেকে পশ্চিমবঙ্গের দূরত্ব মাত্র সাড়ে 600 কিলোমিটার অর্থাৎ এটি খুব একটা বেশি দূরত্ব না।

ভূমিকম্প সৃষ্টির আঁতুড়ঘর অর্থাৎ হিমালয় খুব কাছে অবস্থান করছে এই রাজ্যের।তাই এই তিনটি উৎসস্থল-এর যে কোন একটি উৎসস্থল থেকেও যদি ভূমিকম্প শুরু হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সেই ভূমিকম্প প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা বিশাল। বাংলার মানুষদের কাছে এটা একটা বিশাল ভয়ের জিনিস। যদি কোন ক্রমেই ভূমিকম্প শুরু হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলি এবং তার পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির মুখে পড়বে। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় 23 হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সর্তকতা অবলম্বন করলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো যায় এমনটাই জানিয়েছেন শংকর বাবু।

শংকর বাবুর মতে সমস্ত বাড়ি এমন প্রযুক্তিতেই বানানো দরকার যাতে সেটি ভূমিকম্পের আঘাত সহ্য করতে পারে। বাড়ি যদি একতলা হয় বা 100 তলা সব বাড়িকেই সিসমিক রেট্রোফট মাইক্রোজোনিং কোডের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। দুর্বল এবং পুরনো বাড়িগুলোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেঙে ফেলতে হবে। তার পরিষ্কার কথা বাড়ির ফাউন্ডেশন এর ওপর জোর দিতে হবে। দেখনদারি বিল্ডিং হবার আগে চাই মজবুত বাড়ি। আর বর্তমান প্রযুক্তি আমাদের হাতের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।

সুতরাং কারুর যদি বাড়ি করার কোন পরিকল্পনা থাকে তাহলে তিনি দেখনদারি বাড়ি করার আগে যেন মজবুত বাড়ি বানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *