দাবানলে পুড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজনের জঙ্গল

দেশ-বিদেশ

দাবানলে পুড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজনের জঙ্গল

 

ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজনের জঙ্গল। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে এটি। তাই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই গভীর রেইন ফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এই ফুসফুস। গত আট মাসে ৭২ হাজার বারেরও বেশি আগুন লেগেছে এই অরণ্যের নানা প্রান্তে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাজনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে গোটা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনেও প্রবল প্রভাব পড়তে পারে।

 

জ্বলছে আমাজন রেন ফরেস্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় দিন একধাক্কায় রাত হয়ে যাচ্ছে। চিন্তায় মাথায় হাত। এই ধরনের ঘটনায় ব্রাজিলের প্রেসিডেণ্ট জৈর বলসোনারো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে দোষারোপ করেছেন।

 

 

দেশের প্রেসিডেণ্ট এই ঘটনায় বলেছেন, আমাজন রেন ফরেস্টে দাবানলের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলি দায়ি কারণ দেশের সরকার তাঁদের অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। তাই তারা সরকারের নাম খারাপ করতে চাইছে। প্রেসিডেণ্ট বলসোনারো আমাজনকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা দিয়েছেন তা নিয়ে পরিবেশবিদরা বেশ অবাক। তিনি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা গুলিকে দোষারোপ করেছেন যদিও তিনি এবিষয়ে কোন প্রমাণ দিতে পারেননি। এবং তিনি তা প্রমাণ করতে পারেননি যে এই আগুনের পিছনে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত আছে।

 

সোমবার ব্রাজিলের সাও-পাওলোতে বনের আগুনের ধোঁয়াতে দিনের বেলাতেই গোটা শহর ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনটি লাগে আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া বনাঞ্চলে। সেখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাও-পাওলোতে বিকাল তিনটের পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা গোটা শহরকে অন্ধকার করে দেয় ধোঁয়া।

 

তবে অনেকের মতে কৃষকরা জমি সাফ করতে ইচ্ছে করেই অরণ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। বন পরিষ্কার করে এখানে তারা গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য চারণভূমি তৈরি করার জন্য এমনটা করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে।

 

 

 

বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে লড়াই করার অন্যতম ভরসা আমাজন অরণ্য। গোটা বিশ্বের ফুসফুস বলে পরিচিত এই অরণ্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। সেখানে এ রকম লাগাতার দাবানলের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরিবেশবিদদের। শুকনো বাতাসে দাবানল জ্বলে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সব দাবানল প্রাকৃতিক নয় সেরকমও ব্লছেন পরিবেশবিদরা।

 

 

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা-ও আমাজন অঞ্চলের দাবানলের বেশ কয়েকটি উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে।

 

তবে এসব তর্কের ঊর্ধ্বে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বনভূমিকে রক্ষা করা। যেভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আমাজন, তাতে খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবীর জলবায়ুর কাঠামো বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *