দেশের প্রতি ভক্তি এতটাই যে তার মৃত্যুর পরও তাকে এখনো দেশের সীমান্তে দেখা যায় বলে জানা যায়, জানলে চোখে জল আসবে

দেশ দেশ-বিদেশ

দেশের প্রতি ভক্তি এতটাই যে তার মৃত্যুর পরও তাকে এখনো দেশের সীমান্তে দেখা যায় বলে জানা যায়

baba mandir

তাঁর মৃত্যুর পর কেটে গেছে ৪৮ বছর। কিন্তু এখনও তিনি সীমান্তে প্রহরায় অচল-অটল। কর্মে চ্যুত হন না তিনি। যে কোনও বাধা বিপত্তি প্রতিকুলতার সম্মুখীন হয়েও তিনি অমর যোদ্ধা হরভজন সিং। ‘হিরো অব নাথুলা’ নামেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পরিচিত৷

বেশিরভাগই বিশ্বাস করেন তাঁর আত্মা প্রত্যেক সেনার রক্ষায় সদাসতর্ক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার কিলোমিটার ওপরে ভারত এবং চীনের সীমান্ত এলাকা নাথুলা। ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রুট’ বলতে যে পথের কথা বলা হয়, সেই পথ ছিল নাথুলার পাশ দিয়ে। এখন নাথুলা পাস এবং সাইনো-ইন্ডিয়ান সীমান্ত। এখানেই ১৯৬৫-র সাইনো-ইন্ডিয়ান যুদ্ধে বন্দুকের গুলিতে শহীদ হন হরভজন সিং।

আরও পড়ুনঃ আপনার নাম কি “S” দিয়ে শুরু। জেনে নিন ভবিষ‍্যতে কি ঘটতে চলেছে আপনার জীবনে। একনজরে দেখে নিন আপনার ভবিষ‍্যত।

baba-harbhajan-singh

মাত্র ২৪ বছর জীবিত ছিলেন হরভজন সিং৷ তাঁকে ঘিরে রয়েছে অজস্র লোকগাথা৷ ঘটনার শুরু ১৯৬৮ সালের ৪ অক্টোবর। প্রবল বর্ষার ফলে বন্যার মধ্যে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভারতীয় সিপাহি হরভজন সিং। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

হঠাৎ তার মৃত দেহ পাওয়া যায়, তাও মৃত্যুর তিন দিন পর৷ কথিত আছে, হরভজন সিং উদ্ধারকারী দলকে নাকি সাহায্য করেন তাঁর দেহ খুঁজে বের করতে৷ শুধু তাই নয়, তাঁর এক সহকর্মীকে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করার জন্য নাকি স্বপ্নাদেশও দেন তিনি৷

আরও পড়ুনঃ IAS পরীক্ষার প্রশ্ন, আমাদের শরীরের কোন জিনিষ ছেলেদের লম্বা–মেয়েদের গোল হয়! উত্তর জানলে চমকে উঠবেন

baba

প্রচলতি তথ্য মতে, ‘ওই এলাকায় কর্মরত এক সেনা জাওয়ান তার হারিয়ে যাওয়া সহকর্মী হরভজন সিংকে স্বপ্নে দেখেন। স্বপ্নে সিং বলেন, ওই পাহাড়ি এলাকায় তার দেহ আটকে আছে। সেনাবাহিনীর একাধিক জওয়ান সেই একই স্বপ্ন দেখতে থাকেন। বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি দল পাঠিয়ে স্বপ্নে দেখা জায়গায় খোঁজ করতেই পাওয়া যায় হরভজন সিংয়ের মরদেহ। এবং তিনি এ ও বলে তার নামের এক স্মৃতি সমাধি তৈরির কথা।

কিছু ভারতীয় সেনা মনে করেন ইন্দো-চিন যুদ্ধের আগে বাবা ভারতীয় সেনাদের এই আসন্ন আক্রমনের বিষয়ে সতর্ক করেন৷ নাথুলার সেনাদের সংগ্রহ করা কিছু অর্থ প্রতিবছর বাবা হরভজনের মা কে পাঠানোর কথাও শোনা যায়৷ ওখানে সবাই সিং কে বাবা বলে ডাকে।

আরও পড়ুনঃ নিজের ছেলেকে বিয়ে করলেন মা! বাঁকুড়ার সত্যি ঘটনা! এর পরের ঘটনা শুনলে চমকে উঠবেন।

baba

বাবার স্মৃতিসৌধে গেলে দেখতে পাবেন, একটি শয়নকক্ষের মতো কিছুটা, যেখানে সেনাদের পোষাক, জুতো, বিছানা, কম্বল সবকিছু রাখা আছে৷ শুধু তাই নয়, তাঁর জন্য নির্দিষ্ট একটি কার্যালয়ও রয়েছে৷। ভারত ও চীন সীমান্তে এক সেনা জাওয়ানকে একা ঘুরতে দেখা যায় প্রায়। সবাই মানে যে তিনিই হরভজন সিং ।

মৃত্যুর পর সাম্মানিকভাবে ‘কর্নেল’ পদে উত্তরণ হয়েছে তাঁর। অবসরে যাওয়ার বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তার বাড়িতে বেতনের চেক পৌঁছে দিত ভারতীয় সেনাবাহিনী।
যে লড়াকু মানসিকতা যেমন সীমান্তের প্রহরীদের সাহস যোগায়, ঠিক তেমনই সাহস যোগায় পৃথিবীর সব লড়াকু মানুষকে। হরভজন সিং এভাবেই আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বর্য রাই বচ্চন কে এভাবেই সরিয়ে দিলেন দীপিকা পাড়ুকোন।

baba-harbojan-singh

আরও পড়ুনঃ বাংলা সিনেমার জগতে ফ্লপ খাওয়া দশ নায়ক- তাদের মধ্যে ৩ নম্বর টা দেখুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন অন্যদের সাথে, এই ধরনের অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন, আপনার মতামত জানাতে এখানে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *