ভুতের তান্ডব কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং এ – আতঙ্কে কর্মীরা

দেশ দেশ-বিদেশ
Source:- YouTube

কোলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় প্রায়শই ভূতের খোঁজ পাওয়া যায়।এর মধ্যে কিছু কিছু স্থানের নাম মানুষের মুখে মুখে রটে আছে।তবে কিছু কিছু জায়গায় এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেটি নিয়ে আপনাকে ভাবতে দুবার বাধ্য করবে।এর মধ্যে একটি নাম হলো রাইটার্স বিল্ডিং।এই বিল্ডিং নিয়ে জনমুখে রটেই আছে।সত্যিই কি সেখানে ভূত আছে!! আমরা সেই ব্যখ্যায় যাবোনা।কিন্তু সেখানে কি কি ঘটেছে আজ আমরা সেটা নিয়েই আলোচনা করবো।চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

ব্রিটিং আমলে কোলকাতায় প্রশাসনিক কাজের জন্য তৈরী করা হয় রাইটার্স বিল্ডিং।কিন্তু বিল্ডিংটি সেখানে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী বড়ো জানা হলো।বলা হয়,সেখানে এখনো এমন কিছু ঘর রয়েছে যা এখনো খোলাই হয়নি।সেখানে প্রশাসনিক কাজ ছাড়াও ইংরেজরা সেখানে কিছু নিরীহ ভারতীয়কে ধরে এনে বর্বরভাবে অত্যাচার করতো।সেজন্যই বলা হয় মহাকরণের দেওয়ালে ইংরেজদের অত্যাচারের কাহিনী প্রতিধ্বনিত হয়।

Source:- Culture Trip

এটি প্রশানিক ভবন হিসাবে চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে নানা রহস্যজনক ঘটনা ঘটার কথা শোনা যেতো।নবান্ন তৈরীর আগে এখানে যখন সকল কাজকর্ম হতো তখন প্রায় প্রতিবছরই এখানে কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটার কথা শোনা যেতো।হঠাৎ করেই চিৎকার ভেসে আসা, বিল্ডিং জুড়ে গমগম শব্দ হওয়া, হঠাৎ করে প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়া- এমন নানান ঘটনা ঘটতো এই বিল্ডিং এ।এইসব কারণেই সন্ধ্যের পর সেখানে কাজ করতে চাইতেন সেখানকার কর্মরত কর্মচারীরা।রাইটার্সের পাশে বসবাসকারী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে,এখনো রাইটার্স থেকে হাড়হিম করা শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

সন্ধ্যে নামার সাথে সাথে এই রাইটার্স যেনো পরিণত হয় অশরীরীদের আড্ডাখানায়।সেটা এখানে রাত কাটানো সকল মানুষই স্বীকার করেছেন।জানা গেছে মহাকরণের পাঁচ নম্বর ব্লক অশরীরীদের আসল আখড়া।সন্ধ্যে নামার সাথে সাথেই কারা যেনো বারান্দা দিয়ে হেটে যায়না।হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও চোখে পড়েনা কাউকেই।ঘরগুলো থেকে কিরকম যেনো একটানা শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।আর দোতলাতে কারা যেনো ভেসে উঠে সেই মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।

Source:- indiatoday.in

পুরানো ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যাবে এখানে কিছু কলাগাছের সন্ধান পাওয়া যাবে,যেখানে ব্রিটিশরা অনেক নিরীহ মানুষকে মেরে সেখানেই পুঁতে দিয়েছিলো।তবে ভারতীয় ছাড়াও এখানে বেশ কিছু ইংরেজকেও কবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।লর্ড ভ্যালেটিনের তথ্য মতে সেখানে প্রায়শই ঘোড়ায় টানা গাড়ির খেলা ও বন্দুকযুদ্ধ লেগে থাকতো।তাই সেখানে খুনোখুনি কোনো নিত্যনতুন ঘটনা ছিলোনা।এমন আরও ইতিহাস লুকিয়ে আছে এখানে।এই মহাকরণের বিনয়,বাদল ও দিনেশের হাতে খুন হয়েছিলো কর্ণেল সিমসন।সব মিলিয়ে যারা এখানে গেছে কেউই অশরীরীদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারেনি।

বর্তমানে রাজ্যের সমস্ত কাজকর্ম নবান্নে হলেও এর আগে মহাকরণেই সমস্ত সরকারী কাজ করা হতো।তবে খুব শীঘ্রই মহাকরণ তার স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।বর্তমানে মহাকরণে সংস্করণের কাজ চলছে।এখন এটাই আশা করা যায় যে,নতুন সংস্করণের মাধ্যমে মহকরণে ঘটবে নতুন ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায় আর মুছে যাবে পূর্বে ঘটে যাওয়া সমস্ত কালো ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *